নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন: কিভাবে নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করতে হয়?

আর্টিকেলের এই অংশে আমরা আপনাকে বুঝিয়ে দেব কিভাবে আপনারা নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করবেন। অনেকের কাছেই প্রশ্ন থাকে যে অনলাইনে জন্ম সনদ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় কিনা? কিভাবে অনলাইন জন্ম সনদ আবেদন করব? আর্টিকেল এই অংশে যা যা থাকছে-

সূচিপত্র

আর্টিকেলের এই অংশে আমরা আপনাকে বুঝিয়ে দেব কিভাবে আপনারা নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করবেন। অনেকের কাছেই প্রশ্ন থাকে যে অনলাইনে জন্ম সনদ আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় কিনা? কিভাবে অনলাইন জন্ম সনদ আবেদন করব? আর্টিকেল এই অংশে যা যা থাকছে-

  • অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য।
  • নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
  • নতুন জন্ম নিবন্ধন করতে আবেদনের পদ্ধতি।
  • নতুন অনলাইন জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে কিছু বাধা।

জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য

আমাদের দেশের অনেকেই হয়তো মনে করেন, শিশুদের জন্য জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা আবশ্যক না। কিন্তু ২০০৪ সালের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অনুযায়ী বাংলাদেশে শিশুদের জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা বাধ্যতামূলক। তবে কাগজপত্র সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা থাকলে এ জন্ম নিবন্ধন ৪৫ দিনের পরেও করা যায়।

আপনাদের জন্য পরামর্শ থাকবে যে আপনারা শিশু জন্মের 45 দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে ফেলবেন। আপনারা চাইলে পাঁচ বছরের মধ্যে কিংবা এরপরেও জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, নির্ধারিত সময়ের আগে এটি করতে না পারলে পরে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে অতিরিক্ত কাগজপত্র যোগ করতে হয়। এজন্য সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে পাঁচ বছরের আগেই জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করা।

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হয় আপনি যখন অনলাইনে ফরম পূরণ করবেন তখন নিম্নোক্ত কাগজপত্র গুলো তথ্য অনুযায়ী তথ্য পূরণ করবেন। আবার ফরম পূরণ করে ডাউনলোড করার পর ইউনিয়ন পরিষদের জমা দেওয়ার সময় এসব কাগজপত্রের ফটোকপি যোগ করে দিবেন। কাগজপত্র যোগ করার সময় আপনাকে অবশ্যই বয়স সীমা মেনে কাগজপত্র যোগ করতে হবে। নিচে বয়সই বা সম্পর্কিত কাগজপত্র সম্পর্কে বলা হলো

শিশুর বয়স ০ দিন থেকে ৪৫ দিন হলে:

  • আবেদনকারীর টিকা কার্ড বা ইপিআই কার্ড
  • পিতা-মাতা বা অভিভাবকের অনলাইন জন্ম সনদ। (ঐচ্ছিক‌ অর্থাৎ দিলেও হবে না দিলেও হবে, নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ ই আগস্ট ২০২২) ।
  • আবেদনকারীর পিতা মাতা উভয়েরই এনআইডি অর্থাৎ জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
  • আবেদনকারীর বাসার হোল্ডিং নাম্বার এবং হোল্ডিং ট্যাক্স এর রশিদ।
  • আবেদনকারীর পিতা কিংবা মাতা অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার।

 শিশুর বয়স ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত হলে:

  • আবেদনকারীর টিকা কার্ড কিংবা স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাক্ষর ও সিল সহ প্রত্যয়নপত্র।
  • আবেদনকারীর পিতা মাতার উভয়ই জন্ম সনদ এর বাংলা ও ইংরেজি কপি (২০২২ সালের ১৫ ই আগস্ট এর আগে এটি বাধ্যতামূলক ছিল, তবে বর্তমানে এটি ঐচ্ছিক অর্থাৎ আবেদনকারীর পিতা-মাতার উভয়েরই জন্ম সনদ দিলেও হবে না দিলেও হবে)।
  • আবেদনকারীর পিতা ও মাতার এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
  • ক্ষেত্রবিশেষে আবেদনকারীর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র।
  • আবেদনকারীর বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার ও হাল সনের ট্যাক্সের রশিদ।
  • আবেদনকারীর পিতা ও মাতার কিংবা না থাকলে অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার।
  • ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি।

 বয়স ৫ বছর থেকে বেশি হলে:

 

  • আবেদনকারীর প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী কিংবা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ইত্যাদি যেকোনো একটি সার্টিফিকেট।
  • আবেদনকারীর পিতা মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের বাংলা ও ইংরেজি কপি (১৫ আগস্ট ২০২২ সালের আগে এটি বাধ্যতামূলক ছিল, তবে এখন এটি ঐচ্ছিক অর্থাৎ আবেদনকারীর পিতা-মাতার অনলাইন জার্মানি নিবন্ধনের বাংলা ও ইংরেজি কবি দিলেও হবে না দিলেও হবে)।
  • আবেদনকারীর বয়সসীমা প্রমাণের জন্য চিকিৎসক কর্তৃক প্রত্যয়নপত্র। ( যদি সরকারি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক কোন সার্টিফিকেট না থাকে)
  • আবেদনকারীর পিতা মাতা উভয়েই জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি।
  • আবেদনকারীর বাড়ির হোল্ডিং নাম্বার ও হাল সনের ট্যাক্সের রশিদ।
  • আবেদনকারীর পিতা ও মাতার কিংবা না থাকলে অভিভাবকের মোবাইল নাম্বার।
  • ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীর পাসপোর্ট সাইজের এক কপি ছবি।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার পদ্ধতি

 

আপনাকে আগে বুঝতে হবে কিভাবে আপনি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন টা হাতে পাবেন। প্রথমত আপনি অনলাইনে ফরম পূরণ করবেন ,তারপর ফরম পূরণ করার পর একটি নতুন ফরম পাবেন যা প্রিন্ট করে নিতে হবে। প্রিন্ট করার পর উক্ত ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যোগ করে ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা পৌরসভায় জমা দিতে হবে। তারপরই কেবল সময়মত নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে সম্পূর্ণ নতুন অনলাইন জন্ম নিবন্ধন হাতে পেতে পারবেন।

আর্টিকেল এর এই অংশে আমরা শুধুমাত্র বলে দিব কিভাবে অনলাইনে ফরম পূরণ করবেন ? এবং কিভাবে ডাউনলোড করে ফরমটি প্রিন্ট করে নেওয়ার পাওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের জমা দিবেন?

 

ধাপ-১: আবেদনকারীর তথ্য প্রদান সম্পর্কিত ফরম

 

অনলাইনে ফরমটি পূরণ করার জন্য আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে https://bdris.gov.bd/application এই ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন। ভিজিট করার পর আপনি নিচের মত একটি পেজ পাবেন।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
Birth certificate application

তবে যারা মোবাইল ব্যবহার করবেন তাদের ক্ষেত্রে নিজের মতো একটি স্ক্রিন ওপেন হবে।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
Birth certificate application

এই লেখনিতে আমি ডেস্কটপ ব্যবহার করে এই ফরমটি পূরণ করব। তবে ডেক্সটপ কিংবা মোবাইল ব্যবহার করে এই ফর্মটি পূরণ করতে কোন পার্থক্য নেই। ডেস্কটপ ব্যবহার করে আপনাকে যেগুলো তথ্য ইনপুট করতে হবে মোবাইল ব্যবহার করেও সেগুলো তথ্য ইনপুট করতে হবে।

এখানে আবেদনকারীর তার ইচ্ছামতো যেকোনো একটি ঠিকানা সিলেট করতে পারবে, যেখানে আবেদনকারী নতুন জন্ম নিবন্ধন টি করাতে চায়। অর্থাৎ আবেদনকারী যে ইউনিয়ন পৌরসভা কিংবা সিটি কর্পোরেশন থেকে জন্ম নিবন্ধন করতে চান সেই ঠিকানা আবেদনকারীর কোন ঠিকানায় অবস্থিত তা এখানে নির্বাচন করতে হবে।নির্বাচন করার পর আপনাকে পরবর্তী বাটনে ক্লিক করতে হবে।

পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পর আপনি নিচের স্ক্রিনশটের মতো একটি স্ক্রিন দেখতে পাবেন।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

 

উপরের স্ক্রিনশট দেখতে পাচ্ছেন এটি একটি অনেক বড় ফর্ম। এখানে প্রত্যেকটি ঘরেই আপনাকে নির্ভুলভাবে তথ্য প্রদান করতে হবে।

এখন কিছু সতর্কবাণী বলি, নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের জন্য যে ফর্মটি আমরা পূরণ করতেছি, সেটির সবচেয়ে সেনসিটিভ অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে এই ফর্মটি। এখানে যদি আপনি কোন ভুল তথ্য প্রদান করেন তাহলে পরবর্তী সময়ে ইন আইডি কার্ড তৈরি করতে অনেক সমস্যা হতে পারে।

এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ থাকবে, বয়স অনুসারে আপনাদেরকে উপরে যে সব কাগজপত্র সংগ্রহ করতে বলেছি সেখান থেকে এসব তথ্যগুলো বের করে এই ফর্মটি পূরণ করবেন।

নিজের নাম পূরণ করার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে জুনিয়ার স্কুল সার্টিফিকেট কিংবা সেকেন্ডারি স্কুল সার্টিফিকেট থেকে আপনার নামের পুরো অংশ বাংলা এবং ইংরেজিতে হুবহু কবি করে লিখবেন।

আর আবেদনকারীর যদি এসব সার্টিফিকেট না থাকে তাহলে আবেদনকারীর পিতা-মাতা কিংবা অভিভাবক খুবই গুরুত্বসহকারে নির্ভুলভাবে আবেদনকারীর ‌নাম বাংলা এবং ইংরেজিতে ইনপুট করবেন।

এছাড়া পিতা এবং মাতার নাম ইংরেজি এবং বাংলায় ইনপুট করতে হয়। এক্ষেত্রে আমাদের পরামর্শ থাকবে , অবশ্যই আবেদনকারীর পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডের বাংলা এবং ইংরেজি নাম হুবহু কপি করে এখানে বসাবেন। ( যদি পরবর্তীকালে সমস্যায় পড়তে না চান, দয়া করে উপরের নির্দেশনা গুলো মেনে নির্ভুলভাবে তথ্য প্রদান করুন।)

এছাড়া ফর্মটিতে লিঙ্গ , জন্মস্থানের ঠিকানা, এনআইডি কার্ডের নাম্বার ( যদি থাকে তাহলে, ফাঁকা রাখলেও সমস্যা নেই), পিতা মাতার কততম সন্তান ইত্যাদি বিষয় থাকে। তো এই তথ্যগুলো পূরণ করবেন।

এরপর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ-২: আবেদনকারীর পিতা-মাতার তথ্য

এই ধাপে আবেদনকারীর পিতা-মাতার বিভিন্ন তথ্য প্রদান করতে হবে। আগের ধাপে সর্বশেষ পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পর নিচের মতো একটি ইন্টারফেস বা স্ক্রীন আপনার ডেক্সটপে দেখতে পাবেন।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

 

আরেকবার সতর্ক করে বলছি, পিতা মাতার তথ্যগুলো পূরণ করার সময় অবশ্যই আবেদনকারীর পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী প্রদান করবেন। পিতা-মাতার এনআইডি কার্ডে নাম বাংলা এবং ইংরেজিতে যেভাবে আছে হুবহু সেভাবে কপি করে দেবেন।

এরপর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করবেন।

ধাপ-৩: আবেদনকারীর ঠিকানা।

পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পর আপনি নিচের মত আরেকটি স্ক্রিন দেখতে পাবেন।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

এখানে বলা হচ্ছে, ” আপনি কি নিম্নলিখিত কোন ঠিকানা আপনার স্থায়ী ঠিকানা হিসেবে ব্যবহার করতে চান?”

এখানে আপনি কোনোটিই নয়, এই চেক বক্স এ ক্লিক করবেন। একইভাবে নিচের চেকবক্সেও “কোনোটিই নয়” এখানে ক্লিক করবেন।

এভাবে চেকবক্সে ক্লিক দেওয়ার পর আপনার স্ক্রীন নিচের মতো হয়ে যাবে।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

এখানে আপনি আপনার স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা ইনপুট করবেন। উল্লেখ্য যে, স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা একই লেখা শ্রেয় তা না হলে কিছুটা ঝামেলা হতে পারে। তবে আপনি চাইলে দিতে পারেন।

আপনি আপনার স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা প্রদান করার পর স্ক্রিনের লাল দাগ দেওয়া অংশে যে চেকবক্স দুটি দেখা যাচ্ছে সে দুটিতে ক্লিক করে দিবেন। অর্থাৎ, “স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা একই” এই চেক বক্সে এ ক্লিক করবেন।

এরপর “পরবর্তী” বাটনে ক্লিক করবেন।

ধাপ-৩: আবেদনকারীর প্রত্যয়ন।

পরবর্তী বাটনে ক্লিক করার পর আপনি নিচের মত আরো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

এই ধাপে আপনাকে কনফার্ম করতে হবে যে আপনার সাথে আবেদনকারীর সম্পর্ক কি? অর্থাৎ আপনি কি নিজেই আপনার নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করছেন নাকি আপনার হয়ে আপনার অভিভাবক এ কাজটি করছে।

উপরের স্ক্রিনশটটা দেখতে পাচ্ছেন, যেখানে বলা হচ্ছে যে আঠারো বছরের কম বয়সী কেউ নিজের নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন এর জন্য নিজে আবেদন করতে পারবে না।

আপনার বয়স যদি ১৮ বছরের কম হয়ে থাকে তাহলে আপনি “অন্যান্য” নামক চেক বক্স টি সিলেক্ট করুন।

আর আপনার বয়স যদি ১৮ বা তার বেশি হয় তাহলে নিজ সিলেক্ট করুন।

তো আমি “অন্যান্য” সিলেট করেছি। তাই আমাকে ভবিষ্যৎ অনুসন্ধানের জন্য অভিভাবকের জন্ম নিবন্ধন নাম্বার এন আইডি নাম্বার নাম এবং ফোন নাম্বার দিতে হচ্ছে।

এখানে একটি ইমেইল দেওয়ার অপশন রয়েছে। আপনি চাইলে সাথে দিতেও পারেন আবার নাও দিতে পারেন।

একটা বিষয় বলে রাখি, “আবেদনকারী ব্যক্তির শহিত সম্পর্ক” নামক চেক বক্সের ডানপাশে একটি লাল রঙের স্টার চিহ্ন দেখতে পাচ্ছেন। এই চিহ্নটি যেখানেই দেখবেন সেই চেকবক্সটি বা ফাঁকা ঘরটি ‌আপনাকে অবশ্যই পূরণ করতে হবে অর্থাৎ এটি বাধ্যতামূলক। আবার যেখানে দেখবেন এই লাল চেক বক্স টি নেই সেখানে পূরণ করলেও হবে না করলেও হবে।

উল্লেখ্য, উপরের স্ক্রিনশটটি কিছুদিন আগের। সার্ভার আপডেট হওয়ার কারণে আপনাকে অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্রের ছবি এই পেজে আপলোড দিতে হবে। সারফার আপগ্রেড হওয়ার কারণে স্ক্রিনের নিজের অংশটুকু অনেকটা এরকম দেখাবে।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

এখানে সংযোজন নামে যে লেখাটি দেখতে পাচ্ছেন সেখানে ক্লিক করে কিছু কাগজপত্রের ছবি আপলোড দিতে হবে। তবে প্রত্যেকটি ছবি ১০০ kb এর মধ্যে হতে হবে। এজন্য ছবি তোলার আগে আপনার ফোনের রেজুলেশন কমিয়ে নিবেন। অথবা lit photo অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনার তোলা ছবিগুলো কমপ্রেস করে ১০০ কেবি এর মধ্যে করে নিবেন।

 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে বয়স অনুযায়ী কার কি ধরনের কাগজের ছবি লাগবে?

 

বয়স ০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে হলে।

 

  • টিকা কার্ড বা জন্মের সময় হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত ডাক্তার কর্তৃক স্বাক্ষরকৃত সনদ।
  • পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম সনদ(ঐচ্ছিক অর্থাৎ দিলেও হবে না দিলেও হবে, নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ ই আগস্ট ২০২২ )
  • পিতা মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের ছবি
  • ট্যাক্স পেপার এর ছবি

বয়স ৪৫ দিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে হলে

  • ঠিকাদার বা ডাক্তার কতৃক স্বাক্ষরিত সনদ (সরকারি এমবিবিএস)
  • পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড
  • পিতা মাতার অনলাইন জন্ম সনদ (ঐচ্ছিক)
  • হোল্ডিং বা ট্যাক্স পেপার এর ছবি

 

বয়স পাঁচ বছরের উপরে হলে

 

  • বয়স প্রমাণের জন্য সরকারি এমবিবিএস ডাক্তার কর্তৃক স্বাক্ষরকৃত সনদ এর ছবি। অথবা টিকা কার্ডের ছবি।
  • তবে বয়স প্রমাণের জন্য যেকোনো সরকারি বোর্ডের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর প্রাপ্ত সার্টিফিকেট দিয়ে বয়স প্রমাণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে jsc ssc এইচএসসি কিংবা পিএসসি সার্টিফিকেট ভালো হবে।
  • পিতা মাতার এনআইডি কার্ডের ছবি
  • পিতা মাতার অনলাইন জন্ম সনদের ছবি
  • বিদ্যালয় এর প্রধান শিক্ষক কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র।
  • হোল্ডিং বা ট্যাক্স পেপার এর ছবি

বয়স অনুযায়ী উপরের নির্দেশনা অনুযায়ী কাগজ গুলোর ছবি আপলোড দেওয়া হয়ে গেলে আপনারা পরবর্তী নামক বাটনে ক্লিক করবেন।

এরপর আপনি এমন একটি স্ক্রিন দেখতে পাবেন যেখানে আপনার পুরন করা সমস্ত তথ্য দেখাচ্ছে। এবং নিচেই আপনি সাবমিট এবং একটি বাটন দেখতে পাচ্ছেন।

সাবমিট বাটন ক্লিক করার পূর্বে আপনি আপনার সমস্ত তথ্য ও চেক করে নিন। যদি কোন তথ্য ভুল দিয়ে থাকেন তাহলে পূর্ববর্তী বাটনে ক্লিক করে তথ্যগুলো ঠিক করে নিতে পারবেন। আপনি যতবার পূর্ববর্তী বাটনে ক্লিক করবেন ততবার পূর্ববর্তী পেজে ফিরে যাবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আপনি তথ্য ঠিক করতে পারবেন।

তথ্যগুলো চেক করা হয়ে গেলে আপনি সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন এবং পরবর্তী পেজে যান। এখানে দেখাচ্ছে সফলভাবে আপনি আপনার ফর্মটি পূরণ করতে পেরেছেন এবং আপনাকে একটি আইডি নাম্বার দেখাচ্ছে ।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন
অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন

আপনারা যারা মোবাইল ব্যবহার করে এই কাজটি করেছেন তারা এই পেজটি স্ক্রিনশট দিয়ে রাখবেন এবং আইডি নাম্বারটি খাতায় লিখে রাখবেন। এই আইডি নাম্বারটি কোন কম্পিউটারের দোকানে দিয়ে আপনি একটি প্রিন্ট করা ফর্ম তুলতে পারবেন।

আর আপনি যদি দুষ্টাম ব্যবহার করে কাজটি করেন তাহলে উপরে ” আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন” নামে একটি অপশন দেখতে পাচ্ছেন সেখানে ক্লিক করে প্রিন্ট করে নেবেন।

 

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন এর জন্য প্রিন্ট করা ফরমটি নিয়ে কি করবেন?

 

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করলে আপনি যে ফার্মে হাতে পাবেন এটি মূলত আপনার সকল তথ্য যা পরবর্তীতে আপনার জন্ম সনদ তৈরিতে ব্যবহার হবে।

এই ফান্ডের সাথে আপনার বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদের জমা দিন। এবং আপনি যে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেছিলেন সেটিতে মেসেজ আসবে যখন ইউনিয়ন পরিষদে আপনার জন্ম নিবন্ধন তৈরি হয়ে যাবে।

আর মোবাইল ব্যবহারকারীরা যদি নিবন্ধন নাম্বার দিয়ে ফর্মটি প্রিন্ট করতে না পারেন তাহলেও সমস্যা নেই। আপনারা সরাসরি নিবন্ধন নাম্বারটি কাগজে লিখে এর সাথে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনে কাগজপত্র যুক্ত করে ইউনিয়ন পরিষদের জমা দিন। ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত সচিব রায় বাকি কাজগুলো আপনাকে করে দেবে।

জন্ম নিবন্ধন হয়ে গেলে আপনাকে জানিয়ে দেওয়া হবে এবং জন্ম নিবন্ধন তুলার সময় আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ফি দিতে হবে। সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে ৫০ টাকা ফি দিতে হয়। তবে বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে আপনার জানা আছে যে ইউনিয়ন পরিষদের সচিবরা কেমন, আশা করি বুঝতে পেরেছেন!!

জন্ম নিবন্ধন ফরম প্রিন্ট করার নিয়ম ?

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদনের পর নির্দিষ্ট ফর্ম তৈরি করে ইউনিয়ন পরিষদের জমা দিতে হয়। ফরম প্রিন্ট করার জন্য উপরের স্ক্রিনশটে যে “আবেদনপত্র প্রিন্ট করুন” নামক অপশনটি দেখতে পাচ্ছেন সেখানে ক্লিক করে ডেস্কটপ ব্যবহারকারীরা প্রিন্ট করে নিবেন।

প্রিন্ট করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে ” headers and footers information ” সহ প্রিন্ট হয়। কারণ header এ আপনার এপ্লিকেশন আইডি থাকবে। এপ্লিকেশন আইডি ছাড়া আপনার নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

তাই প্রিন্ট করার সময় print option থেকে “more settings” এ ক্লিক করবেন এবং সেখানে “headers and footers information” নামক চেক বক্সে টিক চিহ্ন দেওয়া না থাকলে টিক চিহ্ন দিয়ে দিবেন। এবং এরপর প্রিন্ট করে নেবেন ।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, যদি জন্ম নিবন্ধন তৈরি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদেই যেতে হয় তাহলে অনলাইনে কেন ফরম পূরণ করলাম?

এর উত্তর হিসেবে আমরা বলব, অনলাইনে আপনি নিজেই নিজেকে তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করতে পারছেন এতে রিস্ক অনেকটা কমে যায়। ইউনিয়ন পরিষদের সচিবদের দায়িত্ব সম্পর্কে আপনারা ভালোই অবগত আছেন। এজন্য পরামর্শ থাকে নিজের জন্ম নিবন্ধন তথ্য নিজেই পূরণ করা ভালো।

অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন এর পর আপনি ফর্মটি প্রিন্ট করে উপযুক্ত তথ্যসহ ইউনিয়ন পরিষদ জমা দিবেন। তারপর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব যাচাই করে স্বাক্ষর দিবেন এবং চেয়ারম্যান এসে স্বাক্ষর দিলেই আপনার জন্ম সনদ রেডি।

নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন সংক্রান্ত প্রশ্ন

নতুন জন্ম সনদ আবেদন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে?

নতুন জন্ম সনদ আবেদন করার জন্য বয়স বেঁধে বিভিন্ন ধরনের কাগজ প্রয়োজন হয়। এই আর্টিকেলের শুরুতেই আমি বলে দিয়েছি, শিশু জন্মের শুন্য থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করলে এক ধরনের কাগজ দরকার আবার ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে জন্ম সনদ তৈরি করলে আরেক ধরনের কাগজ লাগে। আর্টিকেলটি সম্পন্ন করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।





সম্পূর্ণ পড়ুন



কত বছরের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন তৈরি করা উত্তম?

আমাদের পরামর্শ থাকবে আপনারা শিশুর জন্মের শূন্য থেকে ৪৫ দিনের মধ্যেই নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে ফেলুন। তবে কাগজপত্র সংক্রান্ত ঝামেলা থাকলে শিশুর জন্মের পাঁচ বছরের মধ্যে করা উত্তম। এরপরে যদি আপনি জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে চান তাহলে আপনাকে অতিরিক্ত অনেকগুলো কাগজ জোগাড় করতে হবে যা অনেকটা ঝামেলার।

জন্ম নিবন্ধনে কি স্বামীর নাম দেওয়া যায়?

না, জন্ম নিবন্ধন তৈরি করতে স্বামীর নাম দেওয়ার কোন অপশন নেই। স্বামীর নাম কেবল ন্যাশনাল আইডি কার্ড তৈরি করার ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

আবেদনকারীর পিতা মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে কি করনীয়?

২০২২ সালের ১৫ই আগস্ট এরপর থেকে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার জন্য আবেদনকারী পিতা-মাতার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ লাগছেনা। অর্থাৎ এখন এডি আর বাধ্যতামূলক নয় আপনি চাইলে দিতে পারেন আবার না চাইলে নাও দিতে পারেন।

২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নতুন জন্ম নিবন্ধন তৈরিতে পিতামাতার অনলাইন জন্ম সনদ বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু অভিভাবকদের তোপের মুখে সর্বশেষ এটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরিতে কোন তথ্য না পাওয়া গেলে কি হবে?

জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮ – এর ৩ ( গ ) ধারা অনুসারে , কোনো ব্যক্তি এতিম , প্রতিবন্ধী , তৃতীয় লিঙ্গ , পিতৃ – মাতৃ পরিচয়হীন , পরিচয়হীন , বেদে , ভবঘুরে , পথবাসী বা ঠিকানাহীন বা যৌনকর্মী হলে যেসব তথ্য অসম্পূর্ণ থাকবে , সেসব স্থানে ‘ অপ্রাপ্য ‘ লিখে জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন করতে হবে । এসব ক্ষেত্রে তথ্যের ঘাটতির কারণ দেখিয়ে নিবন্ধক জন্ম বা মৃত্যুনিবন্ধন প্রত্যাখ্যান করতে পারবেন না ।

পসিবল ডুবলিকেট কি? এর সমাধান কি ?

পসিবল ডুপ্লিকেট তখনই হয় যখন পাঁচটি প্যারামিটার ১০০% এক আবেদনকারীর সাথে আরেক আবেদনকারীর মিলে যায়। প্যারামিটার পাঁচটি হচ্ছে: ক. নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির নাম খ. পিতার নাম গ. মাতার নাম ঘ. জন্ম নিবন্ধন কার্যালয়ের নাম ঙ. জন্ম তারিখ ।

এই পাঁচটি বিষয়ে এক আবেদনকারীর সাথে আরেক আবেদনকারীর মিলিয়ে গেলে পসিবল ডুবলিকেট নামক সমস্যায় পড়তে পারেন।

তবে ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিগণের সাথে আবেদনকারীর বয়স ও পার্থক্য আর ৮ কিংবা ১০ হলে অথবা স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হলে ডুপ্লিকেট হওয়ার সম্ভাবনা 0 শতাংশ।

ডুপ্লিকেট হলে স্মরণীয় কি: যদি আবেদনকারী পসিবল ডুবলিকেট সমস্যায় পতিত হন তাহলে এ বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন অথোরাইজড ইউজার বা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিংবা স্থানীয় সরকার। এটি শুধুমাত্র একই জেলায় ডুবলিকেট হলে প্রযোজ্য হবে।

তবে ভিন্ন জেলায় ডুপ্লিকেট হলে প্রশাসনিকভাবে এ সমস্যাটির সমাধান করতে হবে।

আবেদনকারীর সাথে ডুপ্লিকেট হওয়া ব্যক্তির কোন সম্পর্ক নেই এই মর্মে একটি আবেদন পত্র উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে মঞ্জুর করতে হবে। এ সময় আবেদনের সাথে প্রয়োজনীয় সকল ধরনের কাগজপত্র যোগ করে দিতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করার পদ্ধতি?

 

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি ডাউনলোড করা বর্তমানে খুবই সহজ। আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদটি যদি অনলাইন হয়ে থাকে তাহলে আপনি সরকারী জন্ম নিবন্ধন কার্যালয় ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সহজেই আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন।

এজন্য আপনাকে সর্বপ্রথম জন্ম নিবন্ধন যাচাই করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন যাচাই করার জন্য নিচের বাটনে ক্লিক করুন।





যাচাই করুন



জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা হয়ে গেলে আপনি কি বোর্ডের কিছু নির্দিষ্ট কি চেপে আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন। আর্টিকেলটি সম্পন্ন করতে নিচের বাটনে ক্লিক করুন।






সম্পুর্ণ আর্টিকেল




আজকে এ পর্যন্তই, আশা করি আপনাদের বুঝাতে পেরেছি কিভাবে অনলাইনে নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করতে হয়? নতুন জন্ম নিবন্ধন সনদ আবেদনের জন্য যে কোন সমস্যায় গঠিত হলে আপনারা এই আর্টিকেলের নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা খুব শীঘ্রই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.