জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম | Birth Certificate Correction

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম – (Birth Certificate Correction bdris.gov.bd):

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম – (Birth Certificate Correction bdris.gov.bd):

আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদে কি কোন তথ্য ভুল রয়েছে? তাই আপনি কি এটি সংশোধন করতে চাচ্ছেন, তাহলে কোন চিন্তা করার দরকার নেই। জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটের মধ্যে কোন তথ্য ভুল হয়ে থাকলে সেটা সংশোধনের জন্য আপনি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ২০২২ সালের আপডেট বা নতুন নিয়ম, কিভাবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যায়, জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন কিভাবে করতে হয় এবং জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ফি কত টাকা এসব বিষয়ে আজকের আর্টিকেলে আমি সম্পূর্ণ আলোচনা করতে চলেছি।

জন্ম নিবন্ধন সনদের তথ্য সংশোধন করার জন্য অনলাইনে আবেদন করার প্রক্রিয়া অনেক সহজ। আমরা bdris.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই যেকোন প্রকার সংশোধনের জন্য আবেদন করতে পারি।

আর্টিকেলটি শেষ পর্যন্ত পড়লে এটির মাধ্যমে আশা করি আপনি উপকৃত হতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ

বন্ধুরা, আমরা আমাদের ব্লগের আগের আর্টিকেলে আপনাদের দেখিয়েছি নতুন জন্ম নিবন্ধন আবেদন করার নিয়ম এবং জন্ম নিবন্ধন অনলাইন করার নিয়মের বেলায় আমাদের তেমন কোন কাগজ পত্র বা ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়নি।

কিন্তু আপনি যখন জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট সংশোধন সম্পর্কিত কোন কাজ করতে চাইবেন তাহলে আপনার কিছু দরকারি ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হবে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ধরণ অনুযায়ী এবং বিভিন্ন অবস্থার পরিপেক্ষিতে আলাদা আলাদা কাগজপত্রের দরকার হয়ে থাকে।

সংশোধনের ধরণ বলতে এখানে বোঝানো হচ্ছে যে, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কয়েক ধরনের হতে পারে।

যেমন: জন্ম নিবন্ধনের নাম সংশোধন, জন্ম নিবন্ধনের বয়স সংশোধন বা জন্ম তারিখ সংশোধন, জন্ম নিবন্ধনে ইংরেজি তথ্য সংযোজন বা বাংলা জন্ম নিবন্ধন সন্দ ইংরেজিতে রুপান্তর এবং জন্ম নিবন্ধনে পিতা মাতার নাম সংশোধন।

আপনি জন্ম নিবন্ধন সনদের যে ধরনের তথ্য সংশোধন করতে চাইবেন সে অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন কাগজ পত্র আপনার প্রয়োজন হয়ে থাকবে।

তাহলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কি কি লাগে এসবের বিষয়ে এখন আমরা জেনে নিব।

জন্ম নিবন্ধনের নাম সংশোধন করার নিয়ম

আপনি যদি জন্ম নিবন্ধন সনদের নাম সংশোধন করতে চান তাহলে এর জন্য আপনি অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেটে নিজের নাম সংশোধন করার জন্য প্রমাণপত্র হিসেবে সাধারণত যে যে ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র গুলোর প্রয়োজন হয়ে থাকে সেগুলো হলো টিকা কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, টিআইএন সার্টিফিকেট।

তবে জন্ম নিবন্ধন নাম সংশোধনের জন্য বয়স এবং ক্ষেত্র অনুযায়ী আলাদা আলাদা ধরনের ডকুমেন্টস এর প্রয়োজন হয়ে থাকে।

যদি আপনি উপযুক্ত প্রমাণপত্র সাবমিট করা সহ সঠিকভাবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করে থাকেন তাহলে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই আপনার সংশোধন আবেদন অনুমোদন হয়ে যাবে।

তাহলে আশা করি নাম সংশোধন সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন।

জন্ম নিবন্ধনের বয়স সংশোধন করার নিয়ম | জন্ম তারিখ সংশোধন

জন্ম নিবন্ধন সনদের বয়স সংশোধন অথবা জন্ম তারিখ সংশোধন করার জন্য আপনি online bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে আবেদন করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য প্রমাণপত্র হিসেবে যে যে ডকুমেন্টস বা কাগজপত্র সমূহের প্রয়োজন হয়ে থাকে সেগুলো হলো টিকার কার্ড, National ID Card বা জাতীয় পরিচয় পত্র, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা টিআইএন সার্টিফিকেট।

যদি উপযুক্ত প্রমাণপত্র সাবমিট করা সহ আপনি জন্ম নিবন্ধনে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করে থাকেন তাহলে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই আপনার আবেদনটি অনুমোদন হয়ে যেতে পারে।

আশা করি জন্ম সনদের জন্ম তারিখ সংশোধনের বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

জন্ম নিবন্ধনে পিতা/মাতার নাম সংশোধন

জন্ম নিবন্ধনে পিতার নাম অথবা মাতার নাম সংশোধন করাটা একটু জটিল রয়েছে।

পিতা মাতার নাম সংশোধনের জন্য আলাদা আলাদা পরিস্থিতি বা প্রক্রিয়া রয়েছে।

যেমন: পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকলে, পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকলে, পিতা/মাতা জীবিত থাকলে এবং পিতা বা মাতা মৃত হলে। এসব পরিস্থিতি অনুযায়ী জন্ম সনদ সংশোধনের জন্য ভিন্ন ভিন্ন আবেদন করার পদ্ধতি রয়েছে।

পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকলে

যদি আপনার বাবা অথবা মায়ের জন্ম নিবন্ধন অনলাইন কপি বা ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকে, তাহলে তাদের জন্ম নিবন্ধনে সকল তথ্য সঠিক আছে কিনা সেটা প্রথমে যাচাই করে নিতে হবে (যেহেতু আপনি পিতা মাতার নাম সংশোধন করতে চাচ্ছেন)।

যদি তাদের জন্ম নিবন্ধন সনদে কোন সমস্যা থাকে তাহলে আগে তাদের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে হবে। আর সঠিক থাকলে আপনাকে যে কাজটি করতে হবে তা নিচে আলোচনা করা হলো।

যদি আপনি নিজের জন্ম নিবন্ধন করার সময় আপনার পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে নিজে থেকে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদে পিতা মাতার সংশোধিত নাম দেখাবে।

যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন করার সময় পিতা ও মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে থাকেন এবং এখন আপনার জন্ম নিবন্ধনে পিতা মাতার নাম সংশোধনের উদ্দেশ্যে আপনার পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করে নেন, তাহলে এমন অবস্থায় অনলাইনে আপনার জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে দেখলে পিতা মাতার সংশোধিত নাম দেখতে পারবেন।

এক্ষেত্রে সনদটি পুণ:মূদ্রণের জন্য আবেদন করে পুণ:মূদ্রণ করে নিলেই আপনার জন্ম নিবন্ধনে পিতা মাতার নাম সংশোধন করতে পারবেন।

যদি পিতা এবং মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকে

পিতা এবং মাথার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট না থাকলে আবার দুইটি আবেদনের পদ্ধতি রয়েছে যদি পিতা-মাতা জীবিত থাকে, তাহলে একটি নিয়মে আবেদন করতে হয় আর তারা মৃত হলে অন্য নিয়মে আবেদন করতে হবে।

পিতা মাতা জীবিত থাকলে

যদি পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন না থাকে এবং তারা জীবিত থাকে এবং সেই সাথে আপনার জন্ম তারিখ যদি ০১-০১-২০০১ এর পরে হয় তাহলে অবশ্যই আপনার আগে আপনার পিতামাতার ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ করতে হবে।

এরপর যা করতে হবে,

পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন হয়ে যাওয়ার পর আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে আপনার পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ম্যাপ করতে হবে। ম্যাপ করার পর আপনার জন্ম সনদ পুন:মূদ্রণ করতে হবে।

তাহলে আপনার জন্ম সনদে পিতা-মাতার সংশোধিত নাম থাকবে।

তবে,

যদি আপনার জন্ম তারিখ ০১-০১-২০০১ এর আগে হয় তাহলে পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকা আবশ্যক নয়। এক্ষেত্রে পিতা মাতার নাম সংশোধনের জন্য অনলাইনে আবেদন করে প্রয়োজনীয় কিছু ডকুমেন্টস সাবমিট করলেই হয়ে যাবে।

যদি পিতা-মাতা মৃত হয়

যদি আপনার পিতামাতা মৃত হয় এবং তাদের কোন জন্ম নিবন্ধন সনদ না থাকে এবং আপনার জন্ম তারিখ ০১-০১-২০০১ এরপরে হয়ে থাকে তাহলে আপনি সরাসরি আপনার জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের মাধ্যমে পিতা মাতার নাম সংশোধন করে নিতে পারবেন।

কিন্তু আপনার পিতা-মাতার মৃত্যুর প্রমাণপত্র অবশ্যই প্রয়োজন হবে।

কিন্তু বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে আপনি এই সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন না (যদি পিতা-মাতা মৃত হয়)। কারণ এখন পর্যন্ত অনলাইনে এই আবেদন করার সুযোগ নেই। এই সমস্যার সমাধানের জন্য আপনার জন্ম নিবন্ধকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম – Brith Certificate Correction Online

আপনি যদি অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন করতে চান তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধনটি অবশ্যই অনলাইনে থাকতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার প্রক্রিয়া সংক্ষিপ্ত আকারে জেনে নিন। আপনার জন্ম নিবন্ধন অনলাইন ডাটাবেজে থাকতে হবে।

অনলাইনে bdris ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধনের সংশোধিত তথ্য পুনঃস্থাপন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাবমিট করতে হবে।

আপনার আবেদন যাচাই করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আপনাকে শুনানীর জন্য ডাকবে।

আপনাকে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস দেখাতে হবে এরপর আপনার সংশোধনের আবেদন অনুমোদন করলে আপনি জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পারবেন।

সংশোধনের জন্য আবেদন করার আগে আপনার জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে দেখে নিন এটি অনলাইনে আছে কিনা।

এরপরে নিজের ধাপগুলো মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করুন

স্টেপ ১:

প্রথমে bdris.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর যে ওয়েব পেজটি ওপেন হবে সেখানে জন্ম নিবন্ধন মেনু থেকে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন লেখাটির উপর ক্লিক করুন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম

স্টেপ ২:

এখানে প্রথম ফাঁকা ঘরটিতে জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং দ্বিতীয় ফাঁকা ঘরটিতে জন্ম তারিখ বসিয়ে নিচে অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন।

এক্ষেত্রে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি 17 ডিজিটের হতে হবে যদি জন্ম নিবন্ধন নম্বর 17 ডিজিটের না হয়ে থাকে তাহলে আপনার ইউনিয়ন পরিষদ পৌরসভা অথবা সিটি কর্পোরেশনে যোগাযোগ করে সঠিক নম্বরটি জেনে নিন।

তবে জন্ম নিবন্ধন নম্বর 16 ডিজিট থেকে 17 ডিজিটে রূপান্তর করার একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, যেটি পরবর্তী আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করব।

তো Search বা অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করার পর নিজের মত দেখতে পারবেন। এখানে নির্বাচন করুন বাটনে ক্লিক করুন।

Birth Registration Correction

স্টেপ ৩:

এখন আপনাকে নিবন্ধন কার্যালয়ের ঠিকানা সিলেক্ট করতে হবে। এখানে আপনাকে পর্যায়ক্রমে দেশ, বিভাগ, জেলা, সিটি কর্পোরেশন, ক্যান্টনমেন্ট / উপজেলা, পৌরসভা / ইউনিয়ন এগুলো সিলেক্ট করে দিতে হবে। তারপরে নিচে পরবর্তী বা Next বাটনে ক্লিক করতে হবে।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম

স্টেপ ৪:

এই ধাপে আপনি জন্ম নিবন্ধন সনদের যে যে তথ্য সংশোধন করতে চান সেগুলো সিলেক্ট করতে হবে এবং সংশোধিত তথ্য সঠিকভাবে টাইপ করতে হবে।

নিচের ছবিতে লক্ষ করলে আপনারা সংশোধিত তথ্য নির্বাচন নামে একটি হেডিং লাইন দেখতে পারবেন, এর নিচে বিষয়, চাহিত সংশোধিত তথ্য এবং সংশোধনের কারণ এই তিনটি অপশন দেখতে পারবেন।

এখানে আপনাকে বিষয়ের পাশে ড্রপডাউন মেনুতে ক্লিক করে আপনি যে তথ্য সংশোধন করতে চান সেটির উপর ক্লিক করে সংযোজন করতে হবে।

মনে করুন, আপনি আপনার বাংলা নামটি সংশোধনের জন্য আবেদন করতে চাচ্ছেন, তাহলে বিষয়ের পাশে ড্রপডাউন মেনু থেকে নিচের ছবির মতো নাম বাংলায় এর উপর ক্লিক করতে হবে।

এইরকমভাবে আপনি যে যে তথ্য সম্পাদনা করতে চান সেগুলোর উপর ক্লিক করে সংযোজন করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন

স্টেপ ৪:

আপনি যে যে তথ্য গুলো সংশোধন করতে চান সেগুলো সংযোজিত হয়ে গেলে চাহিত সংশোধিত তথ্যের জায়গায় আপনার সঠিক তথ্য নির্ভুলভাবে লিখুন।

এরপর সংশোধনের কারণ হিসেবে “ভুলভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে” এটি দিতে পারেন।

তবে যদি আপনি জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চান তাহলে ক্যালেন্ডার থেকে জন্মেত তারিখ, মাস এবং বছর ভালোভাবে সিলেক্ট করে দিন। এরপর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করুন।

Birth Certificate Correction Bdris.gov.bd

স্টেপ ৫:

এই ধাপে আপনাকে ঠিকানা প্রদাণ করতে হবে।

নিচের ছবিতে দেখুন, এখানে আপনাকে জন্মস্থানের ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা গুলো পূরণ করতে হবে। এগুলো আপনার বর্তমান জন্ম সনদ অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।

Jonmo Nibondhon Songsodhon

স্টেপ ৬:

এই ধাপে আপনাকে আবেদনকারীর তথ্য প্রদাণ করতে হবে। জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন ফরম পূরণ হয়ে গেলে তা জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর প্রদাণ করতে হবে।

প্রথমে আবেদনাধীন ব্যক্তির সহিত সম্পর্ক সিলেক্ট করতে হবে। অর্থাৎ আপনি যদি নিজেই নিজের জন্য আবেদন করে থাকেন তাহলে নিজ সিলেক্ট করুন। আর আপনি যদি আপনার সন্তানের জন্য আবেদন করেন তাহলে পিতা অথবা মাতা সিলেক্ট করুন।

আপনি যার জন্ম সনদ সংশোধনের জন্য আবেদন করবেন, আপনি যদি তার পিতা মাতা না হয়ে অন্য কেউ হন, তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর প্রদাণ করতে হবে। আর বাবা-মা হলে তা দেওয়ার দরকার হবে না।

এরপরে সংযোজন বাটনে ক্লিক করুন।

এরপর আপনাকে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র বা ডকুমেন্ট আপলোড করতে হবে। আপনি মোবাইল দিয়ে ছবি তুলে থাকলে অবশ্যই ভালোভাবে ছবি তুলবেন যাতে ছবি পরিষ্কার হয় এবং অবশ্যই সোজাসুজি ভাবে ছবি তুলতে হবে।

এরপর পেমেন্ট অপশন থেকে ফি আদায় সিলেক্ট করুন। এরপর আপনাকে নিচে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। তাহলে আপনার জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফর্ম জমা হয়ে যাবে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফি

আবেদন সফলভাবে সাবমিট হয়ে যাওয়ার পর আপনি আবেদনের একটি এপ্লিকেশন আইডি বা রেফারেন্স কোড পাবেন। এটি অবশ্যই আপনাকে সংরক্ষণ করতে হবে।

এরপর আপনাকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের আবেদন পত্রটি ডাউনলোড করে নিতে হবে। এটি প্রিন্ট করে নিবন্ধকের কার্যালয়ে বা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা অথবা সিটি কর্পোরেশনে জমা দিতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে বা জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফি কত?

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফি ১০০ টাকা, তবে আপনাকে আরও বাড়তি কিছু টাকা খরচ করতে হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন এবং পুনঃমুদ্রণের জন্য আপনাকে ২০০-৩০০ টাকা খরচ করা লাগতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন কিভাবে সংশোধন করব?

  • প্রথমে bdris.gov.bd/br/correction এই লিংকে ভিজিট করুন।
  • জন্ম নিবন্ধন মেনু থেকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন মেনুতে ক্লিক করুন।
  • ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর এবং জন্ম তারিখ ইনপুট করার পর অনুসন্ধান করুন।
  • সংশোধিত তথ্য সঠিকভাবে প্রদাণ করুন।
  • প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র আপলোড করে আবেদন সাবমিট করুন।
  • প্রাপ্ত এপ্লিকেশন আইডি বা রেফারেন্স নম্বর সংরক্ষণ করুন।
  • আবেদন পত্র প্রিন্ট করে আপনার ইউনিয়ন / পৌরসভা / সিটি কর্পোরেশন অফিসে জমা দিন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদনেত বর্তমান অবস্থা জানবো কিভাবে?

আপনি অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আবেদনটি জমা দেওয়ার পর যে রেফারেন্স নম্বরটি পেয়েছিলেন সেটি এবং আপনার জন্ম তারিখের প্রয়োজন হবে।

আবেদনের অবস্থা জানার জন্য bdris.gov.bd/br/correction/status এই লিংকে ভিজিট করুন। আবেদনের ধরণ সিলেক্ট করুন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদনের বর্তমান অবস্থা

এরপর এপ্লিকেশন আইডি এবং জন্ম তারিখ দিয়ে দেখুন বাটনে ক্লিক করলে আবেদনর অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আমার শেষ কথা

তাহলে বন্ধুরা, কিভাবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের জন্য আবেদন করতে হয় বা জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম সম্পর্কে এই আর্টিকেলে আশা করি সম্পূর্ণভাবে জানতে পেরেছেন।

আর জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কিত যেকোন সমসস্যার ক্ষেত্রে আপনাদের সাহায্য করার জন্য আমাদের এই JonmoNibondhon.info ব্লগটি তৈরি করা হয়েছে।

Birth certificate এর সাথে জড়িত যেকোন বিষয়ে জানতে আমাদের ব্লগে ভিজিট করুন এবং আপনার প্রয়োজনীয় আর্টিকেলগুলো পড়ে নিন। ধন্যবাদ।

জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কে ব্লগ আর্টিকেল:

Leave a Comment

Your email address will not be published.